ডেস্ক রিপোর্ট :: কোলে সন্তান নিয়ে ক্লাস টেস্ট দিতে এসে বিপাকে পড়েছিলেন সোনারগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম বিভাগের এক ছাত্রী। পরীক্ষার সময় শিশুটিকে দেখাশোনার মতো কেউ না থাকায় নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি। তবে শিক্ষার্থীর এমন পরিস্থিতিতে পাশে দাঁড়িয়ে মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন একই বিভাগের শিক্ষক আব্দুর রহমান রাহাদ। নিজের কোলে শিশুটিকে রেখে ওই ছাত্রীকে সহপাঠীদের সঙ্গে একই সময়ে নির্বিঘ্নে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ করে দেন তিনি।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষকটির এমন উদ্যোগ প্রশংসিত হয়।
ঘটনার দিন সকালে নির্ধারিত কুইজ পরীক্ষা শুরুর আগে সন্তানকে কোলে নিয়ে শিক্ষকের কাছে আসেন ওই শিক্ষার্থী। তিনি জানান, পরীক্ষার সময় শিশুটিকে দেখাশোনার মতো কেউ নেই। তার স্বামীও অফিস থেকে ছুটি পাননি। এ কারণে বন্ধুদের পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর তাদের কাছে সন্তানকে রেখে পরে পরীক্ষা দেওয়ার কথা ভাবছিলেন তিনি।
শিক্ষার্থীর বিষয়টি জানতে পেরে শিক্ষক আব্দুর রহমান রাহাদ তাকে পরে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ না দিয়ে বরং শিশুটির দায়িত্ব নিজেই নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি জানান, বাচ্চাটি যদি তার কাছে থাকতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে, তাহলে পরীক্ষা চলাকালীন তিনি নিজেই তাকে সামলাবেন।

শিক্ষকের এমন প্রস্তাবে শুরুতে কিছুটা ইতস্তত করলেও পরে রাজি হন শিক্ষার্থী। এরপর পুরো পরীক্ষার সময় শিশুটিকে নিজের কোলে নিয়ে রাখেন শিক্ষক। আর সহপাঠীদের সঙ্গে একই সময়ে বসে নির্ধারিত পরীক্ষা সম্পন্ন করেন ওই শিক্ষার্থী।
পরীক্ষা শেষে কৃতজ্ঞতা জানালে শিক্ষার্থীকে অনুপ্রেরণা দিয়ে শিক্ষক বলেন, ‘মাতৃত্ব কোনো বাধা নয়, বরং এটি জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি। সন্তানদের সঙ্গে নিয়েই নিজের মেধার প্রমাণ দিয়ে আপনি সফলভাবে এগিয়ে যাবেন।
Leave a Reply